২০১২ সালের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবার সবার ওপরে ছিলেন নাফিস ইরতিজা তৃপ্ত। দ্বিতীয় হয়েছিলেন রজত চক্রবর্তী, তৃতীয় রিপন কুমার রায়। তিনজনই পরে বুয়েটে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষা ও পেশাজীবনে এগিয়ে গেছেন। এক যুগের বেশি সময় পর তাঁদের দুজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং একজন সুইজারল্যান্ডে কর্মরত।
নাফিস ইরতিজা তৃপ্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আর্থিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতক শেষ করেন তিনি। পড়াশোনা শেষে কিছু সময় একই বিভাগে শিক্ষকতাও করেছেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করেন। তাঁর গবেষণার বড় অংশজুড়ে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৃহৎ ভাষা মডেল। ২০২৬ সালে পিএইচডি শেষ করার পর ব্লুমবার্গে যোগ দেন তিনি। সেখানে ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৃহৎ ভাষা মডেল নিয়ে কাজ করছেন।
ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়া রজত চক্রবর্তীর পথটা কিছুটা ভিন্ন। বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা শ্যাম্পেইনে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ন্যানোপ্রযুক্তি, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্র ব্যবহার করে অণু শনাক্তকরণ এবং জীববৈজ্ঞানিক অণু নিয়ে কাজ। পিএইচডি শেষ করার পর তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও যুক্ত আছেন।
আর ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হওয়া রিপন কুমার রায় এখন সুইজারল্যান্ডের জুরিখে গুগলের প্রকৌশলী। বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে সফটওয়্যার প্রকৌশল পেশায় যুক্ত হন। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে গুগলে যোগ দেন। বর্তমানে গুগলের জুরিখ কার্যালয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। বিতরণভিত্তিক কম্পিউটার ব্যবস্থা, সি প্লাস প্লাস এবং উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং তাঁর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে। গুগলের আস্থাভিত্তিক সেবা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।
একই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে পাশাপাশি ছিল তাঁদের তিনটি নাম। একজন প্রথম, একজন দ্বিতীয় আর একজন তৃতীয়। এরপর তিনজনের পথ আলাদা হয়েছে। নাফিস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভাষা প্রযুক্তির জগতে, রজত ন্যানোপ্রযুক্তি ও জীববৈজ্ঞানিক গবেষণায় এবং রিপন সফটওয়্যার প্রকৌশলে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। বুয়েটের সেই ভর্তি পরীক্ষার পর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়, আর সেই তিন মেধাবী শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারও ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ড পর্যন্ত।





