বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম কমছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশে বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম।

ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল—সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামই বাড়ানো হয়েছে লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে কেন হলো এত বড় মূল্যবৃদ্ধি?


[আন্তর্জাতিক বাজার]

আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তেলের দাম কমেছে।

সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক শূন্য ছয় ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা WTI ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৪১ ডলার প্রতি ব্যারেল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদের কারণে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।


বাংলাদেশের বাজার

অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে ঘটেছে ঠিক উল্টো চিত্র।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে।

নতুন দামে—

ডিজেল: ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা।

কেরোসিন: ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা।

অকটেন: ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা।

আর পেট্রোল: ১৪০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা প্রতি লিটার।

অর্থাৎ প্রতিটি জ্বালানি তেলের দামই একসঙ্গে ২০ টাকা করে বেড়েছে।


কেন বাড়ল দাম?

প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামোর বিস্তারিত হিসাবও দেওয়া হয়েছে।

এক্স-রিফাইনারি মূল্য, মূসক, শুল্ক, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, পরিবহন ব্যয় এবং ডিলার বা এজেন্টদের কমিশনসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হয়ে ভোক্তা পর্যায়ে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং দেশের বাজারে চূড়ান্ত দামের মধ্যে পার্থক্য কেন তৈরি হলো—এটি নিয়েই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই বাড়ে না।

এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ভাড়া, পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং দৈনন্দিন বাজারদরের ওপরও।

তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পরও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কেন রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হলো?

আপনার কী মনে হয়—
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি কোথায় পড়বে?