জেসিআই সাসটেইনেবিলিটি উইক উপলক্ষে ‘দ্য কনশাস কালেকশন’-এর আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে "প্রজেক্ট H2O (সিজন ৩)" চালু করেছে জেসিআই ঢাকা ইমপ্যাক্ট। রিভার্স অসমোসিস (RO) ফিল্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া সেকেন্ডারি পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং এ সংক্রান্ত ভুল ধারণা দূর করে দেশের পানি সংকট মোকাবেলাই এই দেশব্যাপী উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য।


বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখ পরিবার সুপেয় পানির জন্য RO প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যারা প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে কয়েক কোটি লিটার সেকেন্ডারি পানি তৈরি করে। ফিল্ট্রেশনের এই বাইপ্রোডাক্ট বা নিষ্কাশিত পানিকে—যা এতদিন অপচয় হিসেবে দেখা হতো—তা মূল্যবান "রিসাইকেলড পানি" বা "রিক্লেমড ওয়াটার" (Reclaimed water) হিসেবে পুনঃব্যবহারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই প্রজেক্ট H2O (সিজন ৩)-এর প্রধান উদ্দেশ্য।


একটি আকর্ষণীয় ৭ দিনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং বিশেষ পডকাস্ট অ্যাপিসোডের মাধ্যমে জেসিআই ঢাকা ইমপ্যাক্ট গৃহস্থালি কাজের উপযোগী জিরো-ওয়েস্ট সমাধান তুলে ধরছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে ঘর মোছা, টয়লেট ফ্লাশিং, থালাবাসন ভিজিয়ে রাখা এবং গাছের পরিচর্যায় রিক্লেমড ওয়াটার ব্যবহারের ব্যবহারিক উপায় শেখানো হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায় ছাড়াও শিল্প খাতের টেকসই ব্যবস্থার ওপরও আলোকপাত করছে এই ক্যাম্পেইন। যেমন—বাংলাদেশের টেক্সটাইল ওয়েট-প্রসেসিং খাতে আধুনিক রিকভারি সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ (১২৩ মিলিয়ন) লিটার পর্যন্ত পানি পুনরায় সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে।


জেসিআই ঢাকা ইমপ্যাক্ট-এর একজন প্রতিনিধি বলেন, "আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন মানে প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা নয়; বরং সম্পদের চক্রাকার ও পুনর্নবীকরণযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রজেক্ট H2O (সিজন ৩)-এর মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সচেতনতাকে একটি সমষ্টিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করতে চাই, যা প্রমাণ করে যে ছোট ছোট ব্যক্তিগত অভ্যাসই পরিবেশের ওপর বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।"


আধুনিক ফিল্ট্রেশন প্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন সংরক্ষণ অভ্যাসের মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি টেকসই ও সুন্দর আগামী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে জেসিআই ঢাকা ইমপ্যাক্ট।


জেসিআই ঢাকা ইমপ্যাক্ট সম্পর্কে:


জেসিআই ঢাকা ইমপ্যাক্ট হলো জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (JCI)-এর একটি স্থানীয় চ্যাপ্টার। জেসিআই তরুণ সক্রিয় নাগরিকদের নিয়ে গঠিত একটি বৈশ্বিক নেতৃত্বদানকারী সংগঠন, যা টেকসই উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং সামাজিক প্রভাব বিস্তারকারী প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে।